হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
সুস্থ থাকার জন্য শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। করোনাকালে ইমিউনিটি বা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলছেন সবাই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া উচিত। কারণ এই পরিস্থিতিতে আমাদের ইমিউনিটি করোনা ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবে।
বেশ কিছু সহজ উপাদান আছে যা খালি পেটে খাদ্য আকারে গ্রহণ করলে সেটা ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। খালি পেটে খাওয়ার প্রধান কারণ হলো হজম সিস্টেম ভালো ভাবে কাজ করে, ফলে উপাদান গুলি গ্রহণ করলে তার যথাযথ কার্যকারিতা পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব দামি বা হিসাব করে খাবারদাবার খাওয়ার কোনো দরকার নেই।
আসুন তা জেনে নেওয়া যাক কোন কোন খাবার গুলি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে -
রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও রসুনে অনেক রকমের ঔষধি গুণ আছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রসুনের ব্যবহার চলে এসেছে। রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রন ও ভিটামিন বি ওয়ান। রসুন অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যা প্রাকৃতিক ভাবে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও রসুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হার্ট ও ফুসফুস কে ভালো রাখতে সাহায্য করে রসুন। সকালে খালি পেটে রসুন খেলে এই রকম অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ১- ২ কোয়া রসুন উষ্ণ গরম জলের সাথে খাওয়া যেতে পারে।
যাবতীয় রোগ নিরাময়ে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মধুর গুণ অপরিসীম। মধুতে যেসব উপকরণ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান উপকরণ হলো সুগার বা চিনি, আর যেটা আমরা অনেকই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ—এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না।
মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিঙ্ক ও জৈব অ্যাসিড, কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স ও মিনারেল ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। মধুর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ।
যেমন এটি পচন নিবারক, কোলেস্টেরলবিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খালি পেটে চা–চামচের ১-২ চামচ করে মধু খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যাবে।
ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল আমলকী। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজিলেবুর চেয়ে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকীতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।
এটি গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন বা খালি পেটেও খেতে পারেন। এর রসও পান করা যায়। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। খালি পেটে খাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, যা আমাদের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
প্রশ্ন : ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী ধরনের খাবার উপকারী?
উত্তর: ইমিউনিটি বাড়াতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিংক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে উপকারী। যেমন: লেবু, কমলা, আমলকি, আদা, রসুন, টক দই, মধু, ব্রোকলি, পালং শাক, বাদাম ও মশলা জাতীয় খাদ্য।
প্রশ্ন : প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন কোন উপাদান রাখলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়?
উত্তর: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন:
তাজা ফল (কমলা, পেঁপে, কিউই)
শাকসবজি (ব্রোকলি, পালং শাক)
প্রোটিন (ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল)
প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক (রসুন, আদা)
প্রোবায়োটিক (দই, ঘোল)
পর্যাপ্ত পানি
প্রশ্ন : শুধু খাবারেই কি ইমিউনিটি বাড়ানো সম্ভব?
উত্তর: খাবার ইমিউনিটি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এটি একমাত্র উপায় নয়। সঠিক ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
আরোও বিস্তারিত জানতে এবং সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভিজিট করুন - Sera Doctor অথবা যোগাযোগ করুন - ০১৭৪০-৪৮৬১২৩