হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
নারীদের মধ্যে গর্ভধারণ সংক্রান্ত সবচেয়ে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়? অনেক সময় গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ বোঝা কঠিন হয়, কারণ শুরুতে শরীরের পরিবর্তন খুবই সূক্ষ্ম থাকে। তবে মাসিক বন্ধ হওয়াকে গর্ভধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এই লেখায় আমরা মাসিক বন্ধ হওয়ার সময়, কারণ, ব্যতিক্রম পরিস্থিতি এবং করণীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
সাধারণত প্রতি মাসে ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে জরায়ুর ভেতরের আবরণ (endometrium) ঝরে গিয়ে মাসিক হয়। কিন্তু যখন ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে জরায়ুতে বসে তখন শরীরে hCG (Human Chorionic Gonadotropin) নামক হরমোন তৈরি হতে শুরু করে। এই হরমোন ডিম্বাশয়কে সংকেত দেয় যাতে জরায়ুর আবরণ বজায় থাকে। ফলে মাসিক আর হয় না।
সাধারণভাবে বলা যায়ঃ
অর্থাৎ, বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে গর্ভবতী হওয়ার ২ - ৪ সপ্তাহের মধ্যে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করে ব্যক্তির মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্যের ওপর।
যাদের মাসিক চক্র নিয়মিত (২৮ - ৩০ দিন), তাদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হওয়া দ্রুত বোঝা যায়। আর যাদের মাসিক অনিয়মিত, তাদের ক্ষেত্রে দেরিতে বোঝা যেতে পারে।
হ্যাঁ, অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হওয়ার আগেই কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমনঃ
তবে এসব লক্ষণ অনেক সময় পিরিয়ডের আগের লক্ষণের সঙ্গে মিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি করে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন গর্ভবতী অবস্থায় কি মাসিক হতে পারে? প্রকৃত অর্থে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত মাসিক হয় না। তবে গর্ভধারণের শুরুর দিকে কিছু ক্ষেত্রে হালকা রক্তপাত হতে পারে, যাকে মাসিক মনে হতে পারে। এর কারণ হতে পারেঃ
তবে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খুব তাড়াতাড়ি টেস্ট করলে ফল নেগেটিভ আসতে পারে, যদিও গর্ভধারণ হয়ে থাকে।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয় এর সাধারণ উত্তর হলো, বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ২ - ৪ সপ্তাহের মধ্যেই মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, যা গর্ভাবস্থার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক লক্ষণ। তবে সঠিক নিশ্চিত হওয়ার জন্য সময়মতো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা এবং প্রয়োজনে গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।