হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি (Laparoscopic Surgery) একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগে যেসব সার্জারিতে বড় কাটা দিতে হতো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হতো, এখন সেই একই কাজ করা যাচ্ছে মাত্র কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে। ফলে রোগীর কষ্ট কমে, দ্রুত সুস্থ হওয়া যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।
এই
ব্লগে
আমরা
জানব
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন কী,
কেন
এটি
করা
হয়,
এর
সুবিধা-অসুবিধা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন খরচ কত?
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন হলো
এক
ধরনের
মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, যেখানে
পেটের
ভেতরের
অঙ্গগুলো পরীক্ষা বা
অপারেশন করার
জন্য
মাত্র
কয়েকটি
ছোট
ছিদ্র
করা
হয়।
সেই
ছিদ্র
দিয়ে
একটি
ক্যামেরা (ল্যাপারোস্কোপ) এবং
সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ঢোকানো
হয়।
ক্যামেরার মাধ্যমে সার্জন
টিভি
মনিটরে
অঙ্গগুলো দেখতে
পারেন
এবং
প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
এই
প্রযুক্তিটি সাধারণত নিচের
রোগগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনের জনপ্রিয়তার পেছনে
বেশ
কিছু
যুক্তিসঙ্গত কারণ
আছে।
এর
মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলো:
বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন খরচ কত?
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনের খরচ
নির্ভর
করে
বিভিন্ন বিষয়ের
উপর,
যেমন—
তবে
সাধারণভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনের খরচ নিচের
মতো
হতে
পারে:
|
অপারেশনের ধরন |
আনুমানিক খরচ (টাকা) |
|
ল্যাপারোস্কপিক অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন |
২৫,০০০
– ৪৫,০০০ |
|
ল্যাপারোস্কপিক গলব্লাডার স্টোন অপারেশন |
৩৫,০০০
– ৭০,০০০ |
|
ল্যাপারোস্কপিক হার্নিয়া সার্জারি |
৫০,০০০
– ৯০,০০০ |
|
ল্যাপারোস্কপিক হিস্টেরেকটমি (গাইনী) |
৬০,০০০
– ১,০০,০০০ |
|
ল্যাপারোস্কপিক কোলন
সার্জারি |
৮০,০০০
– ১,৫০,০০০+ |
ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি করেন যারা
ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি সাধারণত জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জনরা সম্পন্ন করে
থাকেন।
এদের
বেশিরভাগই দেশ-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আপনি
চাইলে
অভিজ্ঞ
ল্যাপারোস্কপিক
সার্জন বাংলাদেশ লিস্ট
দেখে
আপনার
নিকটবর্তী ডাক্তার নির্বাচন করতে
পারেন।
এছাড়া
বড়
শহরগুলোতে আলাদা
“Laparoscopic Surgery Unit” বা “Minimal Access Surgery Centre” রয়েছে, যেখানে সার্জন
টিম
আধুনিক
যন্ত্রপাতি দিয়ে
নিরাপদে অপারেশন সম্পন্ন করে
থাকেন।
ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির ঝুঁকি
যদিও
এটি
তুলনামূলক নিরাপদ,
তবুও
যেকোনো
সার্জারির মতো
কিছু
ঝুঁকি
থাকতেই
পারে,
যেমন—
ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির পর পুনরুদ্ধার সময়
অপারেশনের পর
সাধারণত ১-২ দিনের মধ্যেই
রোগী
হাঁটাচলা করতে
পারেন।
৩-৫ দিনের মধ্যে
বাড়ি
ফেরা
যায়।
হালকা
কাজ
শুরু
করা
যায়
১
সপ্তাহের মধ্যে,
তবে
ভারী
কাজ
বা
ব্যায়াম করতে
প্রায়
৩-৪ সপ্তাহ সময়
নিতে
হয়।
সার্জনের দেওয়া
ডায়েট
ও
ওষুধের
নিয়ম
মেনে
চললে
খুব
দ্রুত
স্বাভাবিক জীবনে
ফেরা
সম্ভব।
উপসংহার
ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক
বিশাল
পরিবর্তন এনেছে।
এটি
এখন
আর
কেবল
বিদেশ
নির্ভর
নয়
দেশের
বহু
হাসপাতালেই আধুনিক
প্রযুক্তি দিয়ে
সফলভাবে এসব
অপারেশন সম্পন্ন হচ্ছে।
তবে
অপারেশনের আগে
অবশ্যই
অভিজ্ঞ
জেনারেল
সার্জারি ডাক্তার বা
ল্যাপারোস্কপিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া
জরুরি।
কারণ
রোগীর
অবস্থা,
বয়স,
ও
অন্যান্য শারীরিক জটিলতার উপর
নির্ভর
করে
সার্জারির ধরন
ও
খরচ
নির্ধারণ করা
হয়।
যদি
আপনি
গলব্লাডার স্টোন,
অ্যাপেন্ডিক্স, হেরনিয়া বা
নারীদের গাইনোকলজিক্যাল কোনো
সমস্যার জন্য
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনের কথা
ভাবছেন,
তাহলে
দেরি
না
করে
একজন
বিশেষজ্ঞের সঙ্গে
পরামর্শ করুন
এবং
সঠিক
সিদ্ধান্ত নিন।