হটলাইন:  01740-486123 (10:00am - 7:00pm)

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাক্তার এপয়েন্টমেন্ট প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম । Welcome to The Most Popular Doctor Appointment Platform in Bangladesh.     

Post Details

মাঙ্কিপক্স কী, মাঙ্কিপক্স কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

Published : 2024-08-21
মাঙ্কিপক্স কী, মাঙ্কিপক্স কীভাবে ছড়ায়?

মাঙ্কিপক্স (Monkeypox) হলো একটি বিরল, তবে সিরিয়াস ভাইরাল রোগ যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে এবং একজন ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। এটি পক্সভাইরাস পরিবারের একটি সদস্য এবং ভাইরাল রোগগুলোর মধ্যে একটি, যা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সংক্রমণ ঘটায়।

মাঙ্কিপক্স কী?

মাঙ্কিপক্স প্রথমবারের মতো ১৯৫৮ সালে বানরের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছিল, যেখান থেকে এর নামটি এসেছে। তবে, এই রোগটি বিভিন্ন বন্য প্রাণী, যেমন কাঁপানো কাঠবিড়ালী, ইঁদুর এবং অন্যান্য ছোট স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পাওয়া যায়। ১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছিল। এটি সাধারণত আফ্রিকার রেইনফরেস্ট এলাকাগুলিতে বেশি দেখা যায়, তবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

মাঙ্কিপক্সের লক্ষণ

মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলো অনেকটাই গুটিবসন্তের (smallpox) মতো, তবে সাধারণত কম তীব্র হয়। মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • জ্বর: মাঙ্কিপক্সের প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর। সংক্রমণের ৫-২১ দিনের মধ্যে জ্বর দেখা দেয়।
  • মাথাব্যথা: জ্বরের সাথে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।
  • পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা: পেশি ও জয়েন্টের ব্যথা, এবং শরীরে ক্লান্তি দেখা যায়।
  • শরীরের ফোলাভাব: লিম্ফ নোডের ফোলাভাব হয়, যা গলায়, বাহুতে এবং কুঁচকিতে দেখা যেতে পারে।
  • র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি: ২-৩ দিনের মধ্যে ত্বকে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি প্রথমে জলীয় ফোস্কার মতো হয়, পরে তা শক্ত হয়ে যায় এবং পরে ক্রাস্ট পড়ে শুকিয়ে যায়।

মাঙ্কিপক্স কীভাবে ছড়ায়?

মাঙ্কিপক্স প্রধানত সংক্রামিত পশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। সংক্রামিত পশুর শরীরের তরল বা সংক্রমিত মাংসের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও, সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে, যেমন দীর্ঘ সময় একসাথে থাকা বা শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে, এটি একজন ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে বাতাসের ফোঁটায়ও ছড়াতে পারে, তবে এটি খুবই বিরল।

মাঙ্কিপক্সের প্রতিকার ও প্রতিরোধ

মাঙ্কিপক্সের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার নেই। তবে, এর চিকিৎসা প্রধানত লক্ষণ ভিত্তিক। রোগীকে সাধারণত জ্বর ও ব্যথার জন্য উপশমমূলক ওষুধ দেওয়া হয়। যেসব রোগীর অবস্থা গুরুতর, তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

  • ব্যক্তিগত সুরক্ষা: সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত থাকুন এবং সংক্রমিত পশু বা তাদের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • স্বাস্থ্যবিধি: নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
  • টিকা: গুটিবসন্তের টিকা মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে কিছুটা কার্যকর হতে পারে, তবে এর বিস্তৃত ব্যবহার সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

উপসংহার

মাঙ্কিপক্স একটি সিরিয়াস ভাইরাল রোগ যা ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যদি মাঙ্কিপক্সের লক্ষণ দেখা যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


Our Medical Partner