হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
পিত্তথলির পাথর (Gallstone) হলো পিত্তাশয়ের এমন একটি রোগ যাতে মানুষের পিত্তাশয়ে পাথর জমা হয়। এটি কোলেলিথিয়াসিস নামে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিচিত। উন্নত দেশে প্রায় ১০-২০% প্রাপ্তবয়স্ক লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যক্তির পিত্তথলিতে পাথর পাওয়া যায়, যার মোট ওজন হতে পারে প্রায় ২৫-৫০ টন!
৮০% এরও বেশি ক্ষেত্রে এটি কোন জটিলতা বা সমস্যার সৃষ্টি করে না। মানব শরীরে মূলত কোলেস্টেরল ও পিগমেন্ট এই দুই ধরনের পাথর পাওয়া যায়। উন্নত বিশ্বে ৯০% পাথরই কোলেস্টেরল দিয়ে তৈরি; বাদবাকি পিগমেন্ট পাথর এবং অনেকসময় মিশ্র পাথরও পাওয়া যায়। তবে পিগমেন্ট পাথরের প্রাদুর্ভাবটা এশিয়া মহাদেশে বেশি পাওয়া যায়।
আরও বিস্তারিত জানতে এবং সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের জন্য কল করুন - ০১৭৪০৪৮৬১২৩
পিত্তথলিতে পাথর হওয়া খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে কথাটি এখন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে এবং এমন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা আমাদের অনেকেরই হয়ে থাকে কিন্তু অনেকেই পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে এমনটি বুঝতে পারে না। এমনকি তার লক্ষণও প্রকাশ পায় না। দেহে নীরবেই এর প্রতিক্রিয়ায় নানা রোগ ডেকে আনতে পারে।
সুতরাং দেহের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সচেতন ও সতর্কতা প্রয়োজন। রোগ সৃষ্টির শুরুতেই অবশ্যই চিকিৎসা করা অতি প্রয়োজন। আপনার অবহেলা বা অযত্নে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কিন্তু এই পাথর কি সত্যি সত্যি রাস্তার কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথরের মতো, নাকি অন্য কিছু? আর কীভাবেই বা জানতে পারবেন যে আপনার পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে? আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক পিওথলিতে পাথর হওয়ার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু তথ্য।
পিত্তথলি মানব দেহের বুকের পাজরের ডান দিকে পেটের ওপরে অংশের যকৃত বা লিভার বা কলিজার নিচে যুক্ত থাকে।
যকৃত বা লিভারে পিত্তরস বা বাইল তৈরি হয়। ছোট নালীর মাধ্যমে এই রস পিত্তথলিতে জমা হয়। আমরা যখন চর্বি জাতীয় খাবার খাই তখন কোলেসিস্টোবাইনিন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোনের প্রভাবে পিত্তথলি সঙ্কোচিত হয় এবং জমা থাকা রস বের করে দেয়। পরে এই রস ক্ষুদ্রাতন্ত্রে গিয়ে খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
পিত্তথলির পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটা নির্ভর করে কী পদার্থ দিয়ে পাথরটা তৈরি তার ওপর। কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এই পাথরগুলো পিত্তরসের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় থাকে এবং হালকা বাদামি, ময়লাটে সাদা বা কুচকুচে কালো রঙেরও হতে পারে।
পেটের ডানদিকে যকৃতের পেছনে ও তলার দিকে থাকে পিত্তথলি। খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে পিত্তরস দরকার হয়। নানা কারণে এই পিত্তথলিতে বিভিন্ন পদার্থ অতিরিক্ত জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে।
সরাসরি পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন - ০১৭৪০-৪৮৬১২৩
লিভার থেকে তৈরি পিত্ত রস বা বাইল পিত্তথলি জমা রাখে এবং চর্বি জাতীয় খাবার খেলে হজমের জন্য পিত্তরস পিত্তথলি থেকে বেরিয়ে আমাদের খাদ্য নালিতে আসে এবং হজমে সহায়তা করে। পিত্তরস পিত্তথলিতে থাকার সময়কালে পিত্তরস তথা বাইলের কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়। পিত্তরস হলুদ রঙের তরল পদার্থ। এতে থাকে কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম, লবণ, এসিড ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। এই পিত্তরসের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয় পিত্তথলির পাথর।
পিওথলিতে পাথর সার্জারী এর অত্যাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে ফ্রী পরামর্শ পেতে "সিরিয়াল বুক করুন"
পিত্ত একটি তরল পদার্থ যার মধ্যে কিছু কঠিন পদার্থ থাকে। তরল পদার্থের পরিমাণ কমে গেলে কঠিন পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে পাথর হতে পারে। আর কোনো কারণে যদি পিত্তথলির সঙ্কোচন ও প্রসারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। তাছাড়া চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে যারা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খায়, ভেজাল খাবার খান, ডায়াবেটিস আছে, লিভারের রোগে আক্রান্ত, যেসব নারী বারবার গর্ভবর্তী হন, যারা মোটা ও ওজন বেশি তাদের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
স্থূল ও ওজনাধিক্য ব্যক্তিদের পিত্তথলিতে পাথর বেশি হতে দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়স, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাবার অভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
প্রদাহ ও তীব্র ব্যথার সময় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয় না। এ অবস্থায় সাধারণত কয়েক দিনের জন্য মুখে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে প্রাথমিক উপশমের চেষ্টা করা হয়। পিত্তথলি ফেলে দেয়ার অস্ত্রোপচার সপ্তাহ দুয়েক পর বা দু-তিন মাস পর করলেও ক্ষতি নেই। তবে পিত্তনালিতে পাথর আটকে গিয়ে থাকলে ইআরসিপি যন্ত্রের সাহায্যে পাথর বের করে আনা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে পিত্তথলির পাথরে চিকিৎসার প্রধান উপাদান হলো অপারেশন। অপারেশন দুই ভাবে করা যায়:
১) সরাসরি পেট কেটে
২) লেপারস্কোপিক মেশিনের সাহায্যে।
আধুনিক চিকিৎসা জগতে লেপারস্কোপিক পদ্ধতি খুবই সুবিধাজনক। ল্যাপারস্কোপির অর্থ হলো ক্যামেরা দিয়ে দেখা। পেটের যে অংশে পিত্তথলি অবস্থিত সেখানে ছোট ছোট ছিদ্র করে সূক্ষ্ম সরু যন্ত্র দিয়ে পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়। এতে অপারেশনের পর ব্যথা ও রক্তক্ষরণ কম হয়। রোগী দুই একদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।
আরোও পড়ুন - ঢাকায় পিত্তথলির পাথর অপারেশন খরচ কত?
শরীরের যেকোনো রোগের জন্য কোনো ওষুধ নিজে নিজে খাবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ওষুধের মাত্রা বুঝে সময়মতো ওষধু খাবেন এবং চলবেন।
আরোও বিস্তারিত জানতে এবং সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন - ০১৭৪০-৪৮৬১২৩