হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার (১ম - ১২তম সপ্তাহ) মা ও অনাগত শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়েই ভ্রূণের প্রধান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়। তাই সামান্য অবহেলাও গর্ভের শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় প্রথম তিন মাসে কী কী বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ গাইনি ডাক্তারের কাছে যান। প্রথম চেকআপে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ও ভিটামিন (যেমন ফোলিক অ্যাসিড) নিয়মিত গ্রহণ করুন। নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ কখনোই খাবেন না।
প্রথম তিন মাসে মায়ের শরীরে বমি বমি ভাব, অরুচি ও দুর্বলতা বেশি দেখা যায়। তবুও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ খাবার, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেল-মসলা এড়িয়ে চলুন।
গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা হিসেবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সময়ে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগে, তাই দিনে কিছু সময় বিশ্রাম নিন এবং রাতে কমপক্ষে ৭ - ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভারী কাজ ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
মানসিক চাপ গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ভয় বা টেনশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। হালকা গান শোনা, বই পড়া বা মেডিটেশন মানসিক শান্তি পেতে সাহায্য করে।
প্রথম তিন মাসে অনেকেরই সকালে বমি বমি ভাব বা বমি হয়। এ সময়ঃ
গর্ভাবস্থায় ধূমপান, মদ্যপান ও যেকোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এগুলো ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা, কফি) কমিয়ে দিন।
ভিড় বা সংক্রমণপ্রবণ জায়গা এড়িয়ে চলুন। হাত পরিষ্কার রাখুন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। পিচ্ছিল জায়গায় চলাচলের সময় সাবধান থাকুন, কারণ পড়ে গেলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
গর্ভাবস্থার শুরুতে সহবাসের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, বিশেষ করে যদি আগে গর্ভপাতের ইতিহাস থাকে। দীর্ঘ ভ্রমণ বা ঝাঁকুনিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলুন।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যানঃ
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা মেনে চললে মা ও শিশুর সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। এই সময়টি যত্ন, ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে কাটানো অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ, সুষম খাবার, বিশ্রাম ও ইতিবাচক মানসিকতা এই চারটি বিষয়ই সুস্থ গর্ভাবস্থার মূল চাবিকাঠি।