হটলাইন: 01740-486123 (10:00am - 7:00pm)
নারীদের জীবনে মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক সময় পিরিয়ড দেরি হওয়া বা বন্ধ থাকা সমস্যা দেখা দেয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওজন কমা বাড়া, অনিয়মিত জীবনযাপন বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এর মতো সমস্যার কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। এ অবস্থায় অনেকেই জানতে চান পিরিয়ড না হলে কি খাওয়া উচিত? সঠিক খাবার ও পুষ্টিকর ডায়েট অনেক সময় স্বাভাবিক মাসিক চক্র ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
১. শাকসবজি ও সবুজ পাতা
পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক, ব্রকলি ইত্যাদিতে আয়রন ও ফাইবার থাকে, যা রক্তস্বল্পতা কমাতে এবং হরমোন ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করে।
২. ফলমূল
পেঁপে, আনারস, কমলা, মালটা, ডালিম ও কলা পিরিয়ড নিয়মিত করতে সহায়ক। বিশেষ করে পেঁপে শরীর গরম রাখে এবং জরায়ুর সংকোচনে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
৩. আদা ও হলুদ
আদা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং তলপেটের ব্যথা কমায়। হলুদ প্রদাহ কমিয়ে মাসিক চক্র স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
৪. ডিম ও দুধজাত খাবার
ডিম, দুধ, দই ও পনিরে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. বাদাম ও বীজ
কাজু, কাঠবাদাম, আখরোট, তিল ও ফ্ল্যাক্সসিডে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হরমোনজনিত সমস্যায় উপকারী।
৬. সম্পূর্ণ শস্য (Whole Grains)
আটা রুটি, ওটস, ব্রাউন রাইস শরীরে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা পিরিয়ড নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে।
• অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড ও ভাজাপোড়া
• অতিরিক্ত চিনি ও কোল্ড ড্রিংকস
• অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা, কফি)
• অতিরিক্ত লবণ
এই খাবারগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং পিরিয়ড আরও দেরি করাতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি ও জীবনযাপন
শুধু খাবার নয়, পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৮ - ১০ গ্লাস পানি পান করুন। পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম, হাঁটা, যোগব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানো পিরিয়ড নিয়মিত করতে সহায়ক।
• টানা ২ - ৩ মাস পিরিয়ড না হলে
• তীব্র পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হলে
• গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে
উপসংহার
পিরিয়ড না হলে কি খাওয়া উচিত এর উত্তরে বলা যায়, সুষম ও পুষ্টিকর খাবারই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রে পিরিয়ড স্বাভাবিক হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।